প্রিন্ট এর তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৩ মে ২০২৬
কুমিল্লা নগরে অস্ত্রসহ কিশোর গ্যাংয়ের মহড়া, আতঙ্কে জনজীবন; তদন্তে পুলিশা
মো: তোফায়েল আহমেদ , কুমিল্লা থেকে ফিরে: ||
কুমিল্লা শহরে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে কিশোর ও তরুণদের একটি সংঘবদ্ধ দল প্রকাশ্যে মহড়া দেওয়ার ঘটনায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণা, তারা একটি কিশোর অপরাধী চক্রের সদস্য, যারা নতুন নামে এলাকায় নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতে এ মহড়া চালিয়েছে।গত শুক্রবার বিকেলে গোমতী নদীর তীরবর্তী ভাটারপুকুর, কাপ্তানবাজার, বৌবাজার হয়ে চানপুর সারোয়ার স্কুল রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় শতাধিক কিশোর–তরুণ ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে রামদা, চাপাতি ও লাঠিসোঁটা হাতে মহড়া দেয়। এ সময় তারা উচ্চস্বরে চিৎকার করে এলাকায় আধিপত্য প্রতিষ্ঠার বার্তা দেয় বলে জানান স্থানীয়রা।হঠাৎ এ ধরনের সশস্ত্র উপস্থিতিতে পথচারী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক দোকানদার নিরাপত্তার ভয়ে দ্রুত দোকান বন্ধ করে দেন। কাপ্তানবাজার এলাকার এক ব্যবসায়ী বলেন, “হঠাৎ দেখি অনেক ছেলেপেলে রামদা নিয়ে চিৎকার করছে। ভয়ে দোকানের শাটার নামিয়ে দিই। এমন দৃশ্য আগে কখনো দেখিনি।”এ ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন স্থানীয় অভিভাবকরাও। তাদের অভিযোগ, কিশোরদের একটি অংশ স্কুল–কলেজে পড়লেও তারা পড়াশোনার বদলে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। এক অভিভাবক বলেন, “এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ভয়ংকর পথে যাবে। এখনই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।”এদিকে বিষয়টি নিয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে। এরই মধ্যে পৃথক অভিযানে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, “যে নামেই এ ধরনের গ্যাং গড়ে উঠুক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং অভিযান অব্যাহত আছে।”স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা কুমিল্লা শহরে বেড়েই চলেছে। রাজনৈতিক ছত্রছায়া ও দুর্বল নজরদারির কারণে এসব চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলেও দাবি তাদের। অতীতে এ ধরনের গ্যাং সহিংসতার ঘটনায় হত্যাকাণ্ডসহ একাধিক গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে জানা যায়।
নতুন করে এমন প্রকাশ্য মহড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে এবং প্রশাসনের কার্যকর ও ধারাবাহিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক রুপায়ণ