প্রিন্ট এর তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬
রাজধানীর ভাষানটেকে শাশুড়ি কোহিনূরের ধারালো দাঁতের পৈশাচিক কামড়ে মৌসুমি া
||
ডালপালা মেলা রাজধানীর ভাষানটেকের বুক চিরে যাওয়া হোসেন আলী সড়কের ১০/বি নম্বর হোল্ডিংয়ের ওই বহুতল ভবনটির দেয়ালগুলো হয়তো ইট-পাথরের, কিন্তু তার ভেতরে লুকিয়ে থাকা অন্ধকার যেকোনো মধ্যযুগীয় দাসপ্রথার চেয়েও অভিশপ্ত। নীলফামারীর ডোমারের প্রত্যন্ত জনপদ থেকে বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে আসা মৌসুমি নামের এক তরুনী আজ খোদ রাজধানী শহরের এক বিলাসী নরকের খাঁচায় বন্দি। সোনাইমুড়ীর প্রবাসী আবুল কাশেমের সঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে বসার সময় মৌসুমি ভাবতেও পারেননি, সেই পিঁড়ি আসলে ছিল এক অদৃশ্য জল্লাদখানা। যেখানে প্রবাসীর আগের পক্ষের সন্তানদের মাতৃস্নেহে আগলে রাখার পুরস্কার হিসেবে মেলে পিঠের ওপর লাঠির সপাটে আঘাত আর নরম গালে শাশুড়ি কোহিনূর বেগমের ধারালো দাঁতের পৈশাচিক কামড়। গতকালও যখন পুরো শহর নিজের গতিতে ছুটছিল, তখন ওই চার দেয়ালের ভেতর মৌসুমিকে মাটিতে ফেলে চলে বেধড়ক মারধর, যার জীবন্ত ও রক্তাক্ত দলিল হয়ে এখন তার বাঁ গালে স্পষ্ট ফুটে আছে শাশুড়ি কোহিনূর বেগমের হিংস্র কামড়ের কালচে দাগ। কিছুদিন আগেই যে নারী কোলজুড়ে এনেছেন এক নতুন প্রাণ, সেই সদ্যজাতের কান্নার আওয়াজ ছাপিয়ে কাল রাতেও ভাষানটেকের ওই ফ্ল্যাট থেকে ভেসে এসেছে এক অভাগী মায়ের গোঙানি, অথচ টনক নড়েনি পাশের ফ্ল্যাটের আধুনিক প্রতিবেশীদেরও। অনুসন্ধান বলছে, নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী অঞ্চলের সেই আবুল কাশেম যখন সাতসমুদ্দুর তেরো নদী পার হয়ে দেশে ফেরেন, তখন মৌসুমিকে নিয়ে ভাষানটেকের এই বাড়িতে উঠেন; কিন্তু আয়েশাকে বিনা পয়সার এক পরিচারিকা, যাকে প্রথম স্ত্রীর সন্তানদের দেখভালের পাশাপাশি সহ্য করতে হতো তিন বেলার খোঁটা আর নির্মম শারীরিক লাঞ্ছনা। এই বিষয়ে ভাষানটেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)র সহযোগীতা চান মৌসুমী।
কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক রুপায়ণ