কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি বৈধ ও ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরকৃত নিবন্ধিত ক্যাপসুলকে ভুয়া ক্যাপুসল দাবি করে ফেসবুকে পেজে লাইভ প্রচারের অভিযোগে এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের বিরুদ্ধে দুই কোটি টাকার ক্ষতিপূরণের দাবি করা হয়েছে। এ প্রেক্ষিতে আর্থিক ক্ষতিপূরণের একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিয়েছে সংশ্লিষ্ট ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান নিউ ব্যান্টিস ফার্মাসিউটিক্যালস লি. এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো.আলমগীর শেখ।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকালে দেবিদ্বার উপজেলার একটি স্থানীয় রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান নিউ ব্যান্টিস ফার্মাসিউটিক্যালসের মেডিসিন জেনারেল ম্যানেজার মো. রাসেল বিন ঈসমাইল। অভিযুক্ত কনটেন্ট ক্রিয়েটরের নাম মো.আবদুল আলিম। তিনি দেবিদ্বার বার্তা নামে একটি ফেসবুক পেজের এডমিন ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন, দেবিদ্বার উপজেলার ওষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধিদের সংগঠন মডেল ফারিয়ার সভাপতি মনিরুল ইসলাম বাবু, সাধারণ সম্পাদক মো. আবু বকর সিদ্দিক, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সামাদ। এসময় অন্যান্য কম্পানীর প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে রাসেল বিন ঈসমাইল বলেন, সম্প্রতি একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর (আবদুল আলিম) দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. মো: মহিবুস সালাম খানের অফিস কক্ষে প্রবেশ করে একটি সরকারি প্রেসক্রিপশন হাতে নিয়ে ‘দেবিদ্বার বার্তা’ নামে একটি ফেসবুক পেজে লাইভে আসেন। লাইভে তিনি তাদের কোম্পানির ‘গ্লো জয়েন্ট’ নামের একটি ব্যাথানাশক ওষুধকে ভুয়া দাবি করে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে হেনস্থা করেন। যা অল্প সময়ের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। তিনি দাবি করেন, লাইভে যে ওষুধটি ভুয়া বলে দাবি করা হয়েছে সেটি সরকারিভাবে নিবন্ধিত এবং বৈধ ওষুধ। (যার রেজির্স্টাট নং ০১৯-০৬৭-৯৪)। এসময় তিনি ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরকৃত নিবন্ধিত রেজিস্টার্ড বা অনুমোদিত কাগজপত্রসহ বিভিন্ন প্রমাণপত্র দেখান।
রাসেল বিন ঈসমাইল সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, “ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের কারণে আমাদের কোম্পানির সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে’’। সারাদেশে আমাদের ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এতে প্রায় ২ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি ও কোম্পানির মানহানি হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও তার সহযোগীর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে ২ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
এ বিষয়ে দেবিদ্বার বার্তা পেজের এডমিন অভিযুক্ত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আবদুল আলিম বলেন, আমি তাৎক্ষনিকভাবে কয়েকটি ফার্মেসীতে গিয়ে ওষুধটা ভুয়া না বৈধ যাচাই করেছি. তারা সবাই বলেছে ওষধুটি ভুয়া তাই আমি লাইভ এসে ওষুধটির নাম প্রকাশ করি। কোম্পানীর লোকজন আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে কিন্তু তারা হুমকি দিয়েছি বলে যে অভিযোগ করেছেন তা মিথ্যা। কোম্পানি যদি মামলা দেয় দিক। আমি আইনগতভাবে মোকাবেলা করব।
‘গ্লো জয়েন্ট’ ক্যাপসুল ওষুধটি বৈধ নাকি ভুয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজের সহকারি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, গ্লো জয়েন্ট মূলত হাড় ক্ষয় ও হাটু ব্যাথা জন্য দেওয়া হয়। এটি ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের নিবন্ধিত ওষুধ।
এ বিষয়ে নিউ ব্যান্টিস ফার্মাসিউটিক্যালসের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো.আলমগীর শেখ মুঠোফোনে বলেন, গ্লো জয়েন্ট ক্যাপসুলটি ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের নিবন্ধিত ওষুধ। আমরা সুনামের সঙ্গে সারা দেশে এই ওষুধটি সরবরাহ করছি। একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর ওষুধের গুণগত মান ও সরকারি নিবন্ধিত কিনা তা যাচাই-বাছাই না করে ভুয়া দাবি করে ফেসবুকে লাইভ করেছে এতে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও বিশাল অংকের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। কোম্পানীর পক্ষ থেকে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও তার সহযোগীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা ডা. মো: মহিবুস সালাম খানের সঙ্গে সরকারি ফোন নম্বরে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন