মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং ও মাদকবিরোধী সামাজিক সালিশ, ‘শেষ সুযোগ’ পেল অলি গ্যাংয়ের সদস্যরা ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খানসামায় প্রাথমিক শিক্ষা গিলে খাচ্ছে হুমায়ুন কবির ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেবিদ্বারে সিএনজি চালককে ‘সুযোগমতো হত্যা করে লাশ গুম’—ফোনে হুমকির পর সড়কে ঘেরাও করে হামলার চেষ্টা, দেবিদ্বারে কিশোর গ্যাং নিয়ে প্রশ্ন ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেবিদ্বারে মাদরাসার দেয়াল ধসে শিক্ষার্থী নিহত: বিচারের অপেক্ষায় হাফেজ সিফাতের পরিবার ২৩ আগস্ট ২০২৬

দেবিদ্বারের ইউসুফপুর ইউনিয়নে জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন: আহ্বায়ক ইয়ামিন আলী সদস্য সচিব জাবেদ- মূখ্য সংগঠক শামীম ১৪ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক রুপায়াণ
সর্বশেষ

নীলফামারী-১ আসনে লাঙ্গল প্রার্থী চূড়ান্ত, ডিমলায় নেতাকর্মীদের নিয়ে মতবিনিময় সভা

নীলফামারী-১ (ডিমলা-ডোমার) আসনে জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল) মনোনীত প্রার্থী হিসেবে কর্নেল (অব.) মো. তসলিম উদ্দিন নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি পেয়েছেন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যাচাই-বাছাই শেষে তাঁর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়।এরপর আজ সকাল ১১টায় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার নিজ বাসভবনে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ ১০টি ইউনিয়ন ও বিভিন্ন ওয়ার্ডের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং অন্যান্য পদমর্যাদার নেতাকর্মীরা।মতবিনিময় সভায় কর্নেল (অব.) মো. তসলিম উদ্দিন নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা অবশ্যই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিধিমালা অনুযায়ী বৈধ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ হতে হবে। তিনি অবৈধ প্রচার, উসকানি কিংবা কোনো কুচক্রী মহলের অপপ্রচারে জড়িত না হতে সবাইকে কঠোরভাবে সতর্ক করেন।এ সময় দেশপ্রেমিক ও ত্যাগী সংগঠক হিসেবে পরিচিত মাজেদ পাটোয়ারীসহ উপস্থিত নেতারা ঐক্যবদ্ধভাবে লাঙ্গল প্রতীকের পক্ষে গণসংযোগ জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বক্তারা বলেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের রায় আদায় করাই তাদের মূল লক্ষ্য।সভা শেষে দেশ ও জনগণের কল্যাণ কামনা করে সবাইকে ধন্যবাদ জানান কর্নেল (অব.) মো. তসলিম উদ্দিন।
০৭ জানুয়ারি ২০২৬

সোশ্যাল মিডিয়ায় মেয়েরা কেন বেশি বিপর্যস্ত, কী বলছে গবেষণা?

অন্যদিকে একই বয়সি ছেলেদের ক্ষেত্রে এ হার মাত্র প্রতি ১০ জনে একজন। গবেষণাটি পরিচালনা করেছে যুক্তরাজ্যের পাবলিক হেলথ ওয়েলস (PHW) ও কার্ডিফ ইউনিভার্সিটি।গবেষণায় দেখা গেছে, নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেয়েরাই সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। দশম শ্রেণির ১৪-১৫ বছর বয়সি ২১ শতাংশ মেয়ে এবং নবম শ্রেণির ১৩-১৪ বছর বয়সি ২০.৫ শতাংশ মেয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নেতিবাচক অভিজ্ঞতা হয়েছে বলে জানায়। ছেলেদের ক্ষেত্রে একই বয়সে এ হার যথাক্রমে ১০.১ এবং ৯.৮ শতাংশ। ১৩ বছর বয়সি লয়েস জানায়, ‘কখনো কখনো শুধু সময় কাটানোর জন্য ফোন হাতে নিই। কিন্তু বুঝতেই পারি না কখন দুই ঘণ্টা পেরিয়ে যায়! এটা মাঝেমধ্যে ভয় পাইয়ে দেয়।’ গবেষণায় অংশ নেওয়া অনেকে জানিয়েছে, খেলাধুলা বা শখের কাজ বাদ দিয়ে তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় দিচ্ছে।পিএইচডব্লিও-এর স্বাস্থ্য উন্নয়ন পরামর্শক এমিলি ভ্যান দে ভেনটার জানান, মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় বেশি সময় রাতেও ডিভাইস ব্যবহার করে এবং বেশি রিপোর্ট করে যে তারা সাইবার বুলিয়িংয়ের শিকার হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ার কিছু সুবিধা থাকলেও টিনএজারদের মানসিক স্বাস্থ্যর ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট। বিষণ্নতা, উদ্বেগ ও আত্মমূল্যায়নের ঘাটতির পেছনে এটি একটি বড় ভূমিকা রাখছে।’ তিনি আরও পরামর্শ দেন, রাতে ডিভাইসের নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা, ঘুমানোর ঘরে ফোন না রাখা এবং ঘুমের আগে সামাজিক মাধ্যমে প্রবেশ না করার অভ্যাস তৈরি করলে সমস্যা কিছুটা কমে আসতে পারে। জরিপটিতে সপ্তম থেকে একাদশ শ্রেণির প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এটি কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য, সম্পর্ক, স্কুল জীবন ও প্রযুক্তি ব্যবহারের নানা দিককে ঘিরে সবচেয়ে বৃহৎ ও তথ্যবহুল জরিপগুলোর একটি
০২ মে ২০২৫

ঈদে আসছে নতুন টাকা, থাকছে না কোনো ব্যক্তির ছবি: গভর্নর

শনিবার (২৪ মে) সকালে পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনে দেশের প্রথম ক্রেডিট এনহ্যান্সমেন্ট স্কিম উদ্বোধন শেষে এ কথা বলেন তিনি।গভর্নর বলেন, ‘নতুন নোটে থাকবে দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা। ঈদে বাজারে প্রথমে ১০০০, ৫০ ও ২০ টাকার নতুন নোট আসবে।’টাঁকশাল থেকে জানা গেছে, ২০ টাকার নোট ছাপা প্রায় সম্পন্ন। আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এর পরে ৫০ ও ১০০০ টাকার নোট বাংলাদেশ ব্যাংককে বুঝিয়ে দেবে টাঁকশাল। এরপর কেন্দ্রীয় ব্যাংক সিদ্ধান্ত নেবে এই টাকা কবে বাজারে আসবে।টাঁকশাল জানিয়েছে, নতুন নকশার নোট ছাপাতে ১ থেকে দেড় বছর সময় লাগে। আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। গত ডিসেম্বরে নতুন নকশার নোট বাজারে আনার সিদ্ধান্ত নেয় এই সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় টাঁকশাল চলতি মাসে নতুন নকশার নোট ছাপানো শুরু করে।টাঁকশাল আরও জানায়, একসঙ্গে ৩টি নোটের বেশি ছাপানোর সক্ষমতা নেই টাঁকশালের। তাই প্রথম ধাপে ১০০০, ৫০ ও ২০ টাকার নোট ছাপানো হচ্ছে।এদিকে গভর্নর জানিয়েছে, পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা অন্তর্বর্তী সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার।তিনি বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রচারিত হওয়ায় তা ফেরত পাঠাতে চাপ তৈরি হয়েছে। পাচারকৃত অর্থ ফ্রিজ করায় অর্থ ফেরত আনার প্রথম ধাপ সম্পন্ন হয়েছে।’গভর্নর বলেন, ‘স্কিমের আওতায় পিকেএসএফ অংশীদার এমএফআই গুলোকে ২৪০ কোটি টাকার রিজার্ভ তহবিল ভিত্তিতে ব্যাংক ঋণ গ্যারান্টি দেবে। ঋণের গ্যারান্টি অনুযায়ী এককালীন ০.৫ শতাংশ কমিশন আদায় করা হবে। এর মাধ্যমে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ব্যাংক ঋণ পাওয়া সহজ হবে।’
০২ মে ২০২৫
অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক: খোকসা থানার ওসির বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ, তদন্তের দাবি

অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক: খোকসা থানার ওসির বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ, তদন্তের দাবি

কুষ্টিয়ার খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোতালেব হোসেন এর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া চাঁদাবাজির অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও পরিকল্পিত অপপ্রচার বলে দাবি করেছেন তিনি। সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, একটি চলমান তদন্তকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই এ ধরনের প্রচারণা চালানো হতে পারে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ডিসেম্বরের শেষদিকে শিমুলিয়া ইউনিয়নের এক জনপ্রতিনিধির কাছে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। বিষয়টি থানায় অবগত হলে ওসি মোতালেব হোসেন তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন। তদন্তের স্বার্থে কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।ওসি মোতালেব হোসেন বলেন, “আমি দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে চাঁদাবাজির অভিযোগের তদন্তে নেমেছিলাম। তদন্তের সময় কিছু তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়। এরপর থেকেই একটি মহল আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াতে শুরু করে।”তিনি দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে ল্যাপটপ চাওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য।“আমি কোনো ব্যক্তির কাছে ব্যক্তিগতভাবে ল্যাপটপ বা অর্থ দাবি করিনি। এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছড়ানো হয়েছে,” যোগ করেন তিনি।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার ও পাল্টা বক্তব্য অভিযোগ ওঠার পর এক ব্যবসায়ী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়ে ওসির বিচার দাবি করেন। তবে পরে সেটি সরিয়ে নেওয়া হয়। এ বিষয়ে ওসি বলেন, “কেউ যদি মনে করেন তিনি হুমকির মুখে, তাহলে আইনগত সহায়তা নেওয়ার সুযোগ খোলা আছে। কিন্তু ফেসবুকে একতরফা অভিযোগ দিয়ে প্রশাসনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা সমাধান নয়।”স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি ব্যক্তিগত ভুল বোঝাবুঝি বা তদন্ত-সংক্রান্ত অসন্তোষের ফল হতে পারে। যদিও অভিযোগকারী পক্ষ নিজেদের দাবিতে অনড়।পুলিশ সুপারের অবস্থান কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তা নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত করা হবে।“বাংলাদেশ পুলিশ সবসময় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নীতিতে বিশ্বাস করে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, আর মিথ্যা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”তিনি আরও বলেন, তদন্ত ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়।খোকসা থানায় যোগদানের পর ওসি মোতালেব হোসেন মাদকবিরোধী অভিযান, চুরি-ডাকাতি প্রতিরোধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে বেশ কয়েকটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন বলে স্থানীয়রা জানান। থানার তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক মাদকবিরোধী অভিযান ও ওয়ারেন্ট তামিল কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।কিছু সচেতন নাগরিকের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থান নেওয়ায় একটি স্বার্থান্বেষী মহল অসন্তুষ্ট হয়ে অপপ্রচার চালাতে পারে।বিশ্লেষকরা বলছেন, অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের এই পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষ তদন্তই হতে পারে একমাত্র সমাধান। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হলে একদিকে যেমন প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে অযাচিত বিভ্রান্তিরও অবসান ঘটবে।
০১ মার্চ ২০২৬
খাগড়াছড়ি কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট সার্কেলের রাজস্ব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

খাগড়াছড়ি কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট সার্কেলের রাজস্ব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

খাগড়াছড়ি কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট সার্কেলের রাজস্ব কর্মকর্তা বেলাল উদ্দিন- এর বিরুদ্ধে সম্প্রতি প্রকাশিত রাজস্ব আত্মসাতের অভিযোগের সংবাদে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।জানা যায়, প্রকাশিত প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগ বাস্তব তথ্য, সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন কিংবা আদালতের কোনো সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নয়। অভিযোগগুলো একতরফা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই ছাড়াই প্রকাশ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।প্রতিবাদকারীদের ভাষ্য, রাজস্ব কর্মকর্তা বেলাল উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছেন এবং তার পেশাগত কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সহকর্মী ও সংশ্লিষ্ট অনেকের মধ্যে ইতিবাচক মূল্যায়ন রয়েছে। তাদের দাবি, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করার আশঙ্কা তৈরি করেছে।এছাড়া সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা শ্রী প্রিয়াস চন্দ্র সাহা ও মো. সাহরিয়ারের বিরুদ্ধেও উত্থাপিত অভিযোগ তারা অস্বীকার করেছেন। তাদের মতে, কোনো নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া কাউকে দোষী হিসেবে উপস্থাপন করা ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির পরিপন্থী।প্রতিবাদে আরও বলা হয়, অভিযোগের বিষয়ে যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন মনে করে, তাহলে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক। তদন্তে কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এ বিষয়ে তাদের কোনো আপত্তি নেই। তবে তদন্তের আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিত্রিত করা অনাকাঙ্ক্ষিত।সংশ্লিষ্টরা গণমাধ্যমকে তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ, তথ্য-প্রমাণ যাচাই এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার নীতি অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা আশা প্রকাশ করেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে এবং এ বিষয়ে সব ধরনের বিভ্রান্তির অবসান ঘটবে।
২৬ জুন ২০২৬
দেবিদ্বারে মাদরাসার দেয়াল ধসে শিক্ষার্থী নিহত: বিচারের অপেক্ষায় হাফেজ সিফাতের পরিবার

দেবিদ্বারে মাদরাসার দেয়াল ধসে শিক্ষার্থী নিহত: বিচারের অপেক্ষায় হাফেজ সিফাতের পরিবার

কুমিল্লার দেবিদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুরে মাদরাসার পুরাতন দেয়াল ধসে ১২ বছর বয়সী মাদরাসাছাত্র হাফেজ সিফাত রহমান নিহত হওয়ার ঘটনায় দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বিচারের বিষয়ে অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন তার বাবা মাসুম রহমান ও পরিবারের সদস্যরা।গত ১৩ এপ্রিল ২৬ রাতে ছোট আলমপুরের কাশিফুল উলুম ক্বাওমী মাদরাসায় পুরাতন দেয়াল ভাঙার সময় হঠাৎ দেয়াল ধসে হাফেজ সিফাত রহমানের মৃত্যু হয়। সিফাত উপজেলার বড়শালঘর ইউনিয়নের মাসুম রহমানের ছেলে।ঘটনার দোষীরা প্রভাব খাটিয়ে আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে মামলাটির কার্যক্রম অন্যদিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে৷ বর্তমানে মামলার তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং বিচারের অগ্রগতি নিয়ে নিহতের পরিবারের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।নিহত সিফাতের বাবা মাসুম রহমান বলেন, সন্তান হারানোর শোক এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি তারা। একমাত্র প্রত্যাশা, তার সন্তানের মৃত্যুর সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে এবং দায়ীদের আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।পরিবারের দাবি, একটি চক্র চক্র পরিকল্পিত ভাবে রফাদফার মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে সামাজিক ভাবে তাদের হেয় প্রতিপন্ন করেছে।  প্রভাবশালীদের হুমকী ধামকী নিয়ে প্রতিদিন দিন কাটাঁতে হচ্ছে তাদের।  এদিকে, মাদরাসাছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত তদন্ত শেষ করে দায় নির্ধারণ এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে নিহতের পরিবার।সিফাতের অকাল মৃত্যুতে তার পরিবার যেমন একজন সন্তানকে হারিয়েছে, তেমনি একটি পরিবারের ভবিষ্যৎও থমকে গেছে। এখন পরিবারের একটাই প্রশ্ন—সিফাতের মৃত্যুর দায় কার এবং কবে মিলবে তার মৃত্যুর বিচার? অন্যদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দেবিদ্বার থানার উপপরিদর্শক শাহাদাত হোসেন বলেন, হাফেজ সিফাত রহমান হত্যার চার্জশিট শ্রীগ্রই বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হবে।  
২৩ আগস্ট ২০২৬
১৩ আগস্ট ২০২৫, ১২:৫০ পিএম
ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

ফেব্রুয়ারীতে নির্বাচনের বিষয়ে কি আপনি একমত ?

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন
দেবিদ্বারে মাদরাসার দেয়াল ধসে শিক্ষার্থী নিহত: বিচারের অপেক্ষায় হাফেজ সিফাতের পরিবার

দেবিদ্বারে মাদরাসার দেয়াল ধসে শিক্ষার্থী নিহত: বিচারের অপেক্ষায় হাফেজ সিফাতের পরিবার

কুমিল্লার দেবিদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুরে মাদরাসার পুরাতন দেয়াল ধসে ১২ বছর বয়সী মাদরাসাছাত্র হাফেজ সিফাত রহমান নিহত হওয়ার ঘটনায় দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বিচারের বিষয়ে অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন তার বাবা মাসুম রহমান ও পরিবারের সদস্যরা।গত ১৩ এপ্রিল ২৬ রাতে ছোট আলমপুরের কাশিফুল উলুম ক্বাওমী মাদরাসায় পুরাতন দেয়াল ভাঙার সময় হঠাৎ দেয়াল ধসে হাফেজ সিফাত রহমানের মৃত্যু হয়। সিফাত উপজেলার বড়শালঘর ইউনিয়নের মাসুম রহমানের ছেলে।ঘটনার দোষীরা প্রভাব খাটিয়ে আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে মামলাটির কার্যক্রম অন্যদিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে৷ বর্তমানে মামলার তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং বিচারের অগ্রগতি নিয়ে নিহতের পরিবারের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।নিহত সিফাতের বাবা মাসুম রহমান বলেন, সন্তান হারানোর শোক এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি তারা। একমাত্র প্রত্যাশা, তার সন্তানের মৃত্যুর সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে এবং দায়ীদের আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।পরিবারের দাবি, একটি চক্র চক্র পরিকল্পিত ভাবে রফাদফার মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে সামাজিক ভাবে তাদের হেয় প্রতিপন্ন করেছে।  প্রভাবশালীদের হুমকী ধামকী নিয়ে প্রতিদিন দিন কাটাঁতে হচ্ছে তাদের।  এদিকে, মাদরাসাছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত তদন্ত শেষ করে দায় নির্ধারণ এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে নিহতের পরিবার।সিফাতের অকাল মৃত্যুতে তার পরিবার যেমন একজন সন্তানকে হারিয়েছে, তেমনি একটি পরিবারের ভবিষ্যৎও থমকে গেছে। এখন পরিবারের একটাই প্রশ্ন—সিফাতের মৃত্যুর দায় কার এবং কবে মিলবে তার মৃত্যুর বিচার? অন্যদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দেবিদ্বার থানার উপপরিদর্শক শাহাদাত হোসেন বলেন, হাফেজ সিফাত রহমান হত্যার চার্জশিট শ্রীগ্রই বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হবে।  
২৩ আগস্ট ২০২৬
ইজারাদারকে মারধরের প্রতিবাদে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল

ইজারাদারকে মারধরের প্রতিবাদে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার বাগুর বাজারে চাঁদাবাজদের চাঁদা না দেওয়ায় ইজারাদার মানিক (৪১) নামে এক ব্যক্তিকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন।শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বাগুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাজারের ব্যবসায়ী, স্থানীয় জনসাধারণ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।প্রতিবাদকারীরা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র বাজারের ব্যবসায়ী ও ইজারাদারদের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছে। ইজারাদার মানিক চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে বাজার এলাকায় চাঁদাবাজি বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
২৭ জুলাই ২০২৬
রাজনীতি ও বিপ্লবের কবিতা

রাজনীতি ও বিপ্লবের কবিতা

২৭ জুলাই ২০২৬
খাগড়াছড়ি কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট সার্কেলের রাজস্ব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

খাগড়াছড়ি কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট সার্কেলের রাজস্ব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

খাগড়াছড়ি কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট সার্কেলের রাজস্ব কর্মকর্তা বেলাল উদ্দিন- এর বিরুদ্ধে সম্প্রতি প্রকাশিত রাজস্ব আত্মসাতের অভিযোগের সংবাদে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।জানা যায়, প্রকাশিত প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগ বাস্তব তথ্য, সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন কিংবা আদালতের কোনো সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নয়। অভিযোগগুলো একতরফা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই ছাড়াই প্রকাশ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।প্রতিবাদকারীদের ভাষ্য, রাজস্ব কর্মকর্তা বেলাল উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছেন এবং তার পেশাগত কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সহকর্মী ও সংশ্লিষ্ট অনেকের মধ্যে ইতিবাচক মূল্যায়ন রয়েছে। তাদের দাবি, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করার আশঙ্কা তৈরি করেছে।এছাড়া সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা শ্রী প্রিয়াস চন্দ্র সাহা ও মো. সাহরিয়ারের বিরুদ্ধেও উত্থাপিত অভিযোগ তারা অস্বীকার করেছেন। তাদের মতে, কোনো নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া কাউকে দোষী হিসেবে উপস্থাপন করা ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির পরিপন্থী।প্রতিবাদে আরও বলা হয়, অভিযোগের বিষয়ে যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন মনে করে, তাহলে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক। তদন্তে কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এ বিষয়ে তাদের কোনো আপত্তি নেই। তবে তদন্তের আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিত্রিত করা অনাকাঙ্ক্ষিত।সংশ্লিষ্টরা গণমাধ্যমকে তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ, তথ্য-প্রমাণ যাচাই এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার নীতি অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা আশা প্রকাশ করেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে এবং এ বিষয়ে সব ধরনের বিভ্রান্তির অবসান ঘটবে।
২৬ জুন ২০২৬
ওটিটিতে যা দেখবেন

ওটিটিতে যা দেখবেন

নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে ডকুমেন্টারি ফিল্ম ‘এয়ার ফোর্স এলিট: থান্ডারবার্ডস’। এতে দেখা যাবে মার্কিন বিমান বাহিনীর থান্ডারবার্ডস ফ্লাইট স্কোয়াড্রনের ভেতরের দৃশ্য। ডকুমেন্টরিটি নির্মাণ করেছেন ম্যাট উইলকক্স।বিঞ্জে দেখা যাচ্ছে নাটক ‘নিষিদ্ধ বাসর’। এটি পরিচালনা করেছেন নুরুল আলম আতিক। এতে অভিনয় করেছেন নাজিফা তুষি, মনোজ প্রামাণিক, শিল্পী সরকার অপু প্রমুখ।বঙ্গতে দেখা যাচ্ছে নাটক ‘টাকার মেশিন’। নির্মাণ করেছেন কামরুল জিন্নাহ। এতে অভিনয় করেছেন রাকিব হোসেইন ইভন, অশোক বেপারী, মোমেনা চৌধুরী, আরফান মৃধা শিবলু, ইমেল হক প্রমুখ। হইচইতে মুক্তি পেয়েছে ওয়েব সিরিজ ‘বিষহরি’। এটি নির্মাণ করেন সৃজিত রয়। এতে অভিনয় করেন সোলাঙ্কি রয়, রোহান ভট্টাচার্য, শঙ্কর চক্রবর্তী, কৌশিক রয় প্রমুখ।আইস্ক্রিনে দেখা যাচ্ছে নাটক ‘দূর্ঘটনা কবলিত স্বামী’। এটি পরিচালনা করেছেন জাকিউল ইসলাম রিপন। এতে অভিনয় করেছেন ইরফান সাজ্জাদ ও সাফা কবির প্রমুখ।
২৭ জুলাই ২০২৬
খানসামায় প্রাথমিক শিক্ষা গিলে খাচ্ছে হুমায়ুন কবির

খানসামায় প্রাথমিক শিক্ষা গিলে খাচ্ছে হুমায়ুন কবির

দিনাজপুরের খানসামায় এখন ‘শিক্ষা’ শব্দের মূল উপজীব্যই পাল্টে গেছে। সেখানে শিক্ষকতা মানেই দস্তখতের দাসত্ব, আর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস যেন চলতি দায়িত্বে আসীন শিক্ষা অফিসার মো: হুমায়ুন কবির তালুকদারের ব্যক্তিগত ‘খাজনাখানা’। ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার কাঁঠালডাংগির বাসিন্দা এই বিতর্কিত কর্মকর্তা দিনাজপুরের নানা উপজেলায় জালের মতো বিস্তার করেছেন তার অনিয়মের নেটওয়ার্ক। খানসামায় যোগদানের আগে দিনাজপুর সদর উপজেলা ছিল তার পূর্ববর্তী কর্মস্থল। এর আগে বোচাগঞ্জ, বীরগঞ্জ, বিরল, চিরিরবন্দর ও দিনাজপুর সদর উপজেলায় কর্মরত থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতির পাহাড়সম প্রমাণের পাশাপাশি নারী শিক্ষকদের সাথে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানোর গুরুতর অভিযোগ ওঠে। বীরগঞ্জে কর্মরত থাকাকালীন ‘আশা হোটেল’-এর সামনে এক নারী শিক্ষিকার স্বামীর হাতে প্রকাশ্যে গণধোলাই ও মারপিট খাওয়ার পরেও ক্ষমতার অলৌকিক বলে পার পেয়ে যান এই কর্মকর্তা। অন্যান্য কর্মস্থলেও তার এমন কুকীর্তি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কলঙ্কজনক অধ্যায় আজও শিক্ষা দপ্তরের আকাশে বাতাসে ভেসে বেড়ায়।  ​খানসামায় আসার পর ক্ষমতার দাপটে অন্ধ এই কর্মকর্তার দুর্নীতির সাম্প্রতিকতম সংযোজন, বেসরকারি কিন্ডারগার্টেনগুলোর পাঠদানের অনুমোদন বাণিজ্য। বর্তমানে চলমান অনলাইনে পাঠদানের অনুমতি সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার নামে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি হাঁকাচ্ছেন একমুঠো নগদ টাকা; প্রত্যয়ন প্রতি সুনির্দিষ্ট ৩০ হাজার টাকা না মিললে ঝুলে থাকে অনুমোদনের ভাগ্য। উপজেলার ৬০টিরও বেশি কিন্ডারগার্টেনকে প্রশাসনিক ফাঁদে আটকে ইতোমধ্যেই তিনি একচ্ছত্রভাবে পকেটে পুরেছেন ১৮ লক্ষাধিক টাকার বিশাল উৎকোচ। শিক্ষার ভিত্তিপ্রস্তর গড়ার নাম করে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকিয়ে এভাবে অর্থ আদায় যেন খানসামার বুকে এক নির্মম রাজকরের রাজস্ব আদায়!​২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে পীরগঞ্জের প্রতিবেশী জেলা ঠাকুরগাঁওয়ের একচ্ছত্র ক্ষমতার নাম ভাঙিয়ে যখন তিনি এই তল্লাটে পা রাখেন, তখন থেকেই খানসামার প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থার ঘাড় চেপে ধরেছে এক আতঙ্কের অজগর। খানসামা উপজেলায় চলতি দায়িত্বে যোগদানের পূর্বে তিনি চিরিরবন্দরে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার (AUEO) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পদোন্নতি আর চলতি দায়িত্বের গোলকধাঁধায় তাঁকেই এই খানসামা অফিসের শীর্ষ চালিকাশক্তি বানিয়ে দেওয়ার পর থেকেই শুরু হয় প্রকাশ্য দিবালোকে প্রাতিষ্ঠানিক ডাকাতপনা। প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি অর্থ- ক্ষুদ্র মেরামত, রুটিন মেইনটেন্যান্স, স্লিপসহ বিভিন্ন খাতের প্রায় কোটি টাকা আত্মসাৎ করেও তিনি অধরা, অনড় এবং অবিনশ্বর।​দপ্তরটির অলিখিত বিধান একটাই, ‘টাকা ফেলো, ফাইল নাও’। কনজ্যুমারস লোনের অনুমোদন পেতে ফাইলপ্রতি পাঁচ হাজার টাকার অলিখিত চুক্তি, পেনেশনের নথিতে জীবনের শেষ উপার্জনের ভাগ বসাতে ৩০ হাজার টাকার সোজা দাবি, আর সার্ভিসের ভুল শোধরাতে কিংবা বেতনের চাকা সচল রাখতে উৎকোচের বাঁধাধরা রেটচার্ট। শিক্ষকদের ট্রেনিংয়ের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তকরণ কিংবা মাতৃত্বকালীন ছুটির মতো পরম মানবিক ক্ষণটিকেও তিনি নামিয়েছেন সস্তা দরদামের হাটে। জিপিএফ বা লোন ফর্মে প্রীতিচিহ্ন হিসেবে মুদ্রার ঝংকার না উঠলে হুমায়ুন কবিরের কলমের কালি ফোটে না।​অঙ্কের খাতিরেই হোক বা অন্যায়ের, লুটপাটের নতুন নতুন ফিকির বের করায় এই কর্মকর্তার জুরি মেলা ভার। বিশ্বস্ত সূত্রের তথ্যমতে, খানসামা উপজেলায় দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষায় শিক্ষার্থী প্রতি ১৭ টাকা হারে প্রশ্ন বিক্রি করে তিন লক্ষাধিক টাকার ব্যবসা ফেঁদেছেন এই শিক্ষা অফিসার। উপজেলার ১৮ হাজার শিক্ষার্থীর প্রশ্ন তৈরিতে প্রতি সেট সর্বোচ্চ তিন টাকা হিসেবে খরচ মাত্র ষাট হাজার টাকা হলেও, অনায়াসে দুই লক্ষাধিক টাকা পকেটে পুরেছেন তিনি। একইভাবে ২০২৫ সালে তিনটি সাময়িক পরীক্ষায় শিক্ষার্থী প্রতি ২০ টাকা হারে আদায় করেছিলেন। প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হওয়া দুই শিক্ষককে পোহাতে হয়েছে মধ্যযুগীয় হেনস্থা। ২০২৬ সালের প্রথম ও দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষাতেও সেই একই ১৭ টাকার বাণিজ্য অব্যাহত। ২০২৫ সাল থেকে মোট পাঁচটি সাময়িক পরীক্ষায় কেবল প্রশ্ন বিক্রি করেই তিনি পকেটে পুরেছেন প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকা। তদুপরি, ২০০ টাকার মডেল টেস্টের ভুয়া ফাও তুলে সব মিলিয়ে পরীক্ষা বাণিজ্যে পকেট কেটেছেন ১৫ লক্ষাধিক টাকার।   শিক্ষা অফিসার হুমায়ুন কবিরের ​শকুনের চোখ আর অসংকোচ লোভের থাবা থেকে বাদ পড়েনি কোনো সরকারি তহবিলই। বরাদ্দকৃত সকল খাতের প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ অর্থ প্রধান শিক্ষকদের কাছ থেকে প্রশাসনিক ভয় দেখিয়ে সরাসরি ছিনিয়ে নেওয়া তার নিত্তনৈমিত্তিক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে গোপন আঁতাতের ধোঁয়াশা তুলে, প্রধান শিক্ষকদের না জানিয়েই পুরো সরকারি অর্থ গায়েব করে দেওয়ার সুগভীর চক্রান্তের অভিযোগও উঠে এসেছে।​বিশ্বস্ত সূত্রের ভিত্তিতে একাধিক প্রধান শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে  সাথে জানান, অফিসে টাকা কালেকশনের জন্য তার নিজস্ব কিছু অনুগত ‘দালাল চক্র’ ও নির্ধারিত শিক্ষক প্রতিনিধি রয়েছে, যাদের পকেটেও পৌঁছায় এই জুলুমের বকশিস। ২০২৬ সালে নির্বাচন ও ভোটকেন্দ্রের সংস্কার বরাদ্দের দেড় লাখ (১,৫০,০০০) টাকা থেকে বিদ্যালয় প্রতি ৫০ হাজার টাকা করে প্রকাশ্যে ঘুষ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। রুটিন মেইনটেন্যান্স ও মেরামতের বরাদ্দ থেকে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা কেটে নেওয়া তো নিত্যদিনের হিসাব। ভাবকী সন্ন্যাসীতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৭০ হাজার এবং জোয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৮০ হাজার টাকা নেওয়ার তথ্য আজ তার পকেটস্থ লাঘবের জ্বলন্ত দলিল। ফার্নিচার বেচে পাঁচশো কেজির ভুয়া হিসাব মিলিয়ে সহকর্মীদের খাসির মাংসে মুখ বন্ধ করার যে ‘শাহী দাওয়াত’ তিনি দিয়েছিলেন, তা শিক্ষা প্রশাসনের ইতিহাসে এক দুর্গন্ধময় অধ্যায়। তেরো লাখের পুরোনো মেরামতে আবার নতুন করে বিশ লাখের রূপকথা সাজিয়ে পুরো টাকা গিলে খেয়েছেন অনায়াসে।  ​একাধিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা হাহাকার করে বলেন, "আমাদের জীবনে এমন বেপরোয়া ও লোভাতুর শিক্ষা অফিসার দেখি নাই। টাকা ছাড়া তিনি একটি পাতাও উল্টান না, কোনো স্বাক্ষর করেন না।" বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে পান থেকে খসলেই কারণে-অকারণে শোকজ (Showcause) নোটিশের তোপ দাগানো এবং তা প্রত্যাহারের নামে মোটা অঙ্কের রফা করা ছিল তার দৈনিক আয়ের নিশ্চিত উৎস।​একইভাবে জিম্মি হয়ে পড়েছে এলাকার প্রাইভেট কিন্ডারগার্টেনগুলোও। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কিন্ডারগার্টেন প্রতিনিধিরা জানান, "অনলাইনে পাঠদানের অনুমোদন থেকে শুরু করে রেজিস্ট্রেশন বাতিল, প্রাথমিক সমাপনী বা সরকারি সুযোগ-সুবিধা বাতিলের হুমকি দিয়ে তিনি আমাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন। টাকা না দিলে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার আইনি জুজু দেখানো হয়।"​তবে টাকার লোভকে ছাপিয়ে গেছে তার মানসিক নিপীড়নের পৈশাচিক আনন্দ। ৩টা বাজলেই বাঘের মতো শিকার খোঁজা, টিফিন পিরিয়ডে বেঞ্চে একটু ক্লান্তি জিরোনো সচিববাড়ি স্কুলের চার শিক্ষকের ঘামঝরা বিশ হাজার টাকা পেনাল্টি আদায়, এ যেন এক নির্মম ক্রীড়া! সেই ক্রীড়ারই বলি ঝাপুপাড়া ইছামতি স্কুলের শিক্ষক আক্তার ফারুক। ঘুষের টাকা না দেওয়ায় আটকে থাকা বেতন, আর ব্যাংকের কিস্তির তাগাদার সাঁড়াশিতে পিষ্ট হয়ে তিনি ঢলে পড়লেন মৃত্যুর কোলে। পশ্চিম গোবিন্দপুর থেকে সুবর্ণখুলী কোথাও শিক্ষকের বুকভাঙা আর্তনাদ, কোথাও জ্যেষ্ঠ শিক্ষকের হাসপাতালের আইসিইউ শয্যা; প্রতিটি কোণেই জমাট বেঁধে আছে এই টিইওর সীমাহীন নির্যাতনের চিহ্ন।​এই বিপুল রক্তচোষা টাকার শেষ গন্তব্য কোথায়? উত্তর মেলে দশমাইলের কোটি টাকার জমিতে, আর দিনাজপুর শহরের বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের গোপন বুকিংয়ে। অথচ এতদিন ইউএনওর রহস্যময় নীরবতা আর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের ‘তদন্ত সামলানো’র ঢাল টিইও হুমায়ুনকে বানিয়ে রেখেছিল ধরাছোঁয়ার বাইরের এক অধীশ্বর।​এই বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে সাবেক দিনাজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এ এম শাহজাহান সিদ্দিক (বর্তমানে রংপুরে কর্মরত) স্বীকার করে বলেন, "আমি দিনাজপুরে থাকাকালীন মো: হুমায়ুন কবির তালুকদারের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির পর্বতসম অভিযোগ পেয়েছিলাম।"অন্যদিকে, বর্তমানে দিনাজপুরের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো: সাইফুজ্জামান জানান, "আমি সদ্য চার্জে এসেছি, তাই বিস্তারিত বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে হবে। তবে আমার পূর্বসূরি যদি অভিযোগ শুনে থাকেন এবং বিষয়টি সত্য হয়, তবে সরকারি চাকুরিতে এমন অনিয়ম-দুর্নীতির কোনো সুযোগ নেই। সুনির্দিষ্ট প্রমাণ সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
মোঃ রনি হাবিব,